Bengali BlogTravel Blog

“বাই রোডে নেপাল (Nepal) ভ্রমন” – মাত্র ১২,৫০০/ টাকায়।

“বাই রোডে নেপাল (Nepal) ভ্রমন” – মাত্র ১২,৫০০/ টাকায়। এর মধ্যে থাকবে শিলিগুড়ি, কাকরভিটা,কাঠমান্ডু এবং পোখারা আপনি চাইলে আরো ২০০০/ টাকা বাড়িয়ে দার্জিলিং বা কালিংপং ও ঘুরে আসতে পারবেন।

১ম দিন- কল্যানপুর বাস ষ্ট্যান্ড থেকে রাত ০৮ টার গাড়িতে বুড়িমাড়ি বর্ডার এর উদ্দেশ্যে রওনা। আমাদের SR পরিবহনে এসি গাড়ির up-down টিকিট কাটা ছিল, জনপ্রতি ১৫০০/- টাকা। রাতে আমরা দুইজন ৫০/- টাকা করে ১০০ টাকার নাস্তা করেছি। অবশ্য আমাদের সাথে যথেষ্ট খাবার ছিল। যেমন- খেজুর, পেয়ারা, আচার, বিস্কুট, চানাচুর, কেক ইত্যাদি।২য় দিন- ২য় দিনটা শুরু হয় আমাদের ভোগান্তির মধ্যে। গত রাতে রাস্তায় প্রচুর জ্যাম এবং আমাদের গাড়ির চাকা নষ্ট হওয়ার কারণে আমাদের বর্ডারে পৌছাতে দুপুর ০১ টা বেজে যায়। প্রচুর টেনশন হচ্ছিল যদি আজ রাতে আমরা নেপালে যেতে না পারি তাহলে ট্যুর প্লানটা অনেকটা উল্টাপাল্টা হয়ে যাবে। খুব তাড়াহুড়া করে আমরা SR গাড়ির লিটন ভাইকে ট্রাভেল টেক্স ৫০০/- টাকা সহ বর্ডার খরচ বাবদ ৮০০/- টাকা দিলাম।

সে খুব তাড়াহুড়া করে আমাদের ট্রাভেল টেক্স ব্যাংকে জমা দিয়ে বর্ডার পার করে দিল। একটা কথা বলে রাখি…. যারা ট্রাভেল টেক্স বর্ডারে গিয়ে দিবেন ভাবছেন তারা গাড়িতে উঠে সুপারভাইজারের সাথে কথা বলে লিটন ভাইয়ের নাম্বারে আপনার পাসপোর্ট নম্বর এবং আপনার নাম SMS করে পাঠিয়ে দিলে সে আপনি যাওয়ার আগেই টেক্স ব্যাংকে জমা দিয়ে রাখবে। আমার বর্ডার পার হলাম। India বর্ডারে ১০০/- টাকা দেওয়া লাগল, খুব তাড়াতাড়ি করে আমাদের বর্ডার প্রসেসিং শেষ করে দিল বিশ্বজিৎ দা। আমাদের SR পরিবহন এরই লোক। তখন বাজে দুপুর ২.৩০ মিনিট। শিলিগুড়ি আপনি ৭০ রুপি খরচ করে বাসে যেতে পারবেন, আমাদের তাড়াহুড়ার কারণে আমরা দুইজন শেয়ারে মাইক্রোতে উঠলাম ২২০ রুপি করে।

শিলিগুড়িতে নেপালে পানির টাংকি বাসে উঠলাম জনপ্রতি ২৫ রুপি। শিলিগুড়িতে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলে নেপালের পানি টাংকির বাস দেখিয়ে দিবে। রানিগঞ্জ বর্ডারে যাওয়ার পর আমাদের বর্ডার ক্রসিং সময় প্রায় শেষ তাই India বর্ডারে আমাদের জনপ্রতি ৫০০ রুপি করে দিতে হলো। এটা কেন দিলাম তা বুঝতে পারি নাই। আমাদের দেরি হওয়ার কারণে নিল কিনা তাও জানি না? তবে অনেকের কাছে শুনলাম…..India সব বর্ডারের মধ্যে রানিগঞ্জ বর্ডার সবচাইতে বেশি ঘুষখর। যাই হোক, নেপালে প্রবেশ করার পর নেপালি ইমিগ্রেশনকে জনপ্রতি ৩০০ রুপি দিতে হলো, তখন বাজে সন্ধ্যা ০৬ টা। কাঠমান্ডু লাস্ট গাড়ি বিকাল ০৫ টা বাজে চলে গেছে। আমি নাছরবান্দা, আজ আমি কাকরভিটা থাকব না…..যেভাবেই হোক কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা দিব

। গেলাম বাস পার্কে। ঐখানে গিয়ে লোকাল বাসে রাত ৮.০০ টার গাড়িতে রওনা দিলাম কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে। ভোর ৪.০০ টায় আরেকটি গাড়ি change করতে হয়…..ওরাই আমাদের উঠিয়ে দেয় ওই গাড়িতে। আমাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিল জনপ্রতি ১২৫০ নেপালি রুপি। তবে ডাইরেক বাসগুলোর ভাড়া ১২০০ নেপালি রুপি।৩য় দিন- আমরা কাঠমান্ডু পৌছালাম দুপুর ১২.৩০ মিনিটে। গাড়ির লোককে জিজ্ঞেস করলেই হবে…..আমি থামেল যাব…..কোথায় নামলে ভাল হবে? একটি কথা যদি কেউ মহিলা নিয়ে আসে তাহলে রাতের লোকাল বাসে না আসাই ভাল। কাঠমান্ডু বাস পার্ক থেকে থামেল মাইক্রো ভাড়া ২০ নেপালি রুপি।

থামেল যাওয়ার পর অনেক ভালো লাগল। থামেলে অনেক হোটেল ৪০০ রুপি থেকে ৪০০০ যত দামি হোটেল আপনি চান পাবেন। আমরা দুইজন ৭০০ রুপিতে একটি হোটেলে উঠলাম। আমাদের হোটেলে গরম পানি ছিল এবং পরিবেশ খুবই ভাল ছিল। এখানকার সব হোটেলেই Wi-Fi আছে। বিকেলে গোসল করে খাওয়া-দাওয়া করলাম, হোটেল ম্যানেজারের সাথে কথা বলে পরশু দিনের পোখারার ট্যুরিস্ট বাসের টিকিট কাটলাম জনপ্রতি ৭০০ নেপালি রুপি। আপনি চাইলে লোকাল গাড়িতে যেতে পারেন ৪০০ রুপি করে এবং পরের দিনের সাইট সিনের জন্য টিকিট কাটলাম জনপ্রতি ১০০০ রুপি করে। আপনি চাইলে ১০০ রুপিতে সাইট সিন করতে পারবেন। কারণ কাঠমান্ডুর প্রত্যেকটি সাইট সিনই থামেলের আশেপাশে। আর একটি স্পট থেকে আরেকটি স্পট যেতে মাইক্রো ভাড়া ২০ রুপির বেশি না।

আপনি কাঠমান্ডু দরবার স্কয়ার থামেল থেকে ১০ মিনিট হেঁটেই ঘুরে আসতে পারেন। সন্ধ্যা থেকে রাত ১০.০০টা পর্যন্ত থামেল এরিয়াতে ঘুরলাম। রাতের থামেল এক অন্য জগৎ। বার, ডান্স বার, মেসেজ নানান ধরনের অফার আপনার কাছে আসবে। পশ্চিমারা এখানে অনেক কেনাকাটা করছে, আলো ঝলমলে থামেল অনেক ভাল লাগবে আপনার।৪র্থ দিন- আমরা MANASAROVAR Travel & Tours (P.) Ltd. এর মাধ্যমে ঘুরলাম। ওদের গাইড খুবই আন্তরিক এবং বন্ধু সুলভ। আমাদের প্রত্যেকটি স্পট সম্পর্কে খুব তথ্যমূলক ধারনা দিল। আমরা এই প্যাকেজে Pashupatinath (Hindu Temple), Boudhanath (Buddhist Stupa), Budhanilkantha (Sleeping Vishnu Statue), Swoyambhunath (Buddhist Monastery), Kathmandu Durbar Square এই পাঁচটি জায়গায় ঘুরতে আমাদের বিকাল ৫.০০ টা বেজে যায়।

আর একটি কথা ওরা যেই রেস্টুরেন্টে বিরতি দিবে Lunch করার জন্য ঐ রেস্টুরেন্টে Lunch না করাই ভাল। কারণ ওই রেস্টুরেন্ট থেকে ওরা কমিশন নেয় তাই দাম অনেক বেশি থাকে। সন্ধ্যায় আবার আমরা রাতের ১০.০০ পর্যন্ত থামেল ঘুরলাম। থামেল যতই ঘুরি ততই ভালো লাগে।৫ম দিন- ভোর ৫.০০ টায় ঘুম থেকে উঠলাম। সকাল ৭.০০ টায় আমাদের ট্যুরিস্ট বাসের গাড়ি পোখারায় যাওয়ার জন্য তাই ৬.৩০ মিনিটে গোসল ও নাস্তা করে বের হয়ে গেলাম। আমাদের গাড়িতে আমরা দুইজন বাদে আরও একটি বাংলাদেশি পরিবার ছিল। তাদের অনেক ভাবের কারণে তাদের সাথে ওতটা কথা হয়নি। তবে ফ্রান্স, গ্রিস এবং ইউ.কে এর কিছু ট্রাভেলারের সাথে অনেক বন্ধু সুলভ সম্পর্ক হলো।

গাড়িতে অনেক মজা করলাম আমরা। রাস্তার পথে ২-৩ জায়গায় বিরতি দেয়। পথের খাবার গুলোর দাম অনেক বেশি কিন্তু খাবারের মান ততটা ভালো না। আমাদের ফল ও শুকনা খাবার ছিল। আমার তাই খেলাম এবং ট্রাভেলার বন্ধুদেরও খাওয়ালাম এবং ওদের খাবারও আমাদের সাথে শেয়ার করল। নেপালে ফলের দাম অনেক কম। দুপুর ০২ টা বাজে আমরা পোখারাতে নামলাম। যেহেতু আমরা ট্যুরিস্ট বাসে গিয়েছি তাই আমাদের বাস পার্কে নামতে হয়নি। অনেকটা লেকের কাছাকাছি গিয়ে নামিয়েছে। নামার পর আমাদের অনেক হোটেলের দালালরা ধরল। ওদের কথা কান না দিয়ে আমরা সোজা Fewa লেকের পার চলে গেলাম এবং লেক পারে একটি রুম নিলাম ৬০০ নেপালি রুপিতে। যা দালালদের মাধ্যমে নিলে ১০০০ রুপি পড়ত। হোটেলে উঠে ফ্রেশ হলাম। ফ্রেশ হবার পর হোটেল ম্যানেজারের সাথে কথা বলে সাইট সিনের জন্য

MANASAROVAR Travel & Tours (P.) Ltd. এর পরের দিনের জন্য বুকিং দিলাম জনপ্রতি ৫০০ রুপি। বিকাল থেকে রাত ১০.০০ টা পর্যন্ত Fewa লেক পাড়ে ঘুরলাম। রাতের Fewa লেক কি আর বলব…..অসম্ভব সুন্দর!৬ষ্ঠ দিন- সকাল ০৯ টা বাজে আমাদের MANASAROVAR Travel & Tours (P.) Ltd. এর গাড়ি হাজির। আমরা বের হয়ে গেলাম বিকাল ৫.০০ পর্যন্ত আমাদের Bindhyabasini Temple, Mahendra Cave & Bate cave, Begnas Lake (Fishing Lake) , Devid’s Fall & Gupteshwor Mahadev Cave ঘুরলাম। বিকাল ৫.০০ বাজে হোটেলে এসে পরের দিন SARANGKOT HIMALAYAN VIEW & SUNRISE দেখার জন্য টেক্সি রিজার্ভ করলাম ১৫০০ নেপালি রুপিতে। টেক্সি রিজার্ভের সময় একটা কথা মনে রাখতে হবে, বলতে হবে যে….. Top view তে যাব.

কারণ Top View এর নিচে আরেকটা View Point আছে বলে না নিলে ওরাে ঐখানেই নামিয়ে দেয়। এবং হোটেল ম্যানেজারকে বলে পরের দিনের কাকর ভিটার টিকিট কনফার্ম করলাম ১৩৫০ নেপালি রুপিতে। টিকিটের মূল্য ১৩০০ রুপি, ৫০ রুপি হোটেলের চার্জ ।সন্ধ্যা থেকে আবার ১০.০০ টা পর্যন্ত আমরা লেক পাড়ে ঘুরলাম।৭ম দিন- ভোর ৫.০০ বাজে আমাদের টেক্সি হোটেলে সামনে এসে হাজির। আমরা দুইজন ৫.২০ এ রওনা দিলাম SARANGKOT HIMALAYAN VIEW & SUNRISE এর উদ্দেশ্যে। SARANGKOT এর যাওয়ার পর আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারণে আমাদের HIMALAYAN & SUNRISE দেখা হয়নি।

৯.৩০ মিনিটে আমরা হোটেলের ‍রুমে চলে আসলাম। ব্যাগ গুছিয়ে ১০.০০ টা বাজে আমাদের ব্যাগগুলো হোটেলের কাউন্টারে জমা রাখলাম। কারণ ওদের চেকআউট সময় দুপুর ১২.০০টা। ব্যাগ জমা রাখার পর আমরা লেকপাড়ে চলে গেলাম। এই দিনে হিন্দু ধর্মালম্বীদের হলি উৎসব থাকার কারণে ট্যুরিস্টদের জন্য অনেক রকমের আয়োজন ছিল। সম্পূর্ণ লেকপাড় রঙে রঙিন হয়ে গিয়েছিল। চারদিক থেকে কনসার্টের আওয়াজ। আমরাও অনেক মজা করলাম এবং আমরাও রঙে রঙিন হয়ে গেলাম। বিকাল ৩.০০ বাজে আমরা হোটেলে চলে আসলাম। কারণ ৫.০০ বাজে আমাদের কাকরভিটার গাড়ি হোটেলে গোসল করে ৪.০০ টা বাজে গাড়িতে চলে গেলাম

। ৫.০০ বাজে আমাদের গাড়ি রওনা দিল কাকরভিটার উদ্দেশ্যে।৮ম দিন- সকাল ১০.৩০ এ কাকরভিটা আসলাম। দুই বর্ডার ইমিগ্রেশনে আমাদের ৩০ মিনিট সময় লাগল। তবে কোন টাকা লাগেনি। বর্ডার পার হবার পর আরেক সমস্যায় পড়লাম। আজ ভারতে হলি উৎসব। তাই গাড়ি পাচ্ছিলাম না। কিছুক্ষণ পর পানির টাংকি থেকে বাসে উঠলাম শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে জনপ্রতি ভাড়া নিল ২৫ রুপি। শিলিগুড়িতে আমরা কিছু কেনাকাটা করলাম। শিলিগুড়িতে ও সমস্যা চেংড়াবান্দার গাড়ি পাচ্ছি না। তাই জলপাইগুড়ির বাসে উঠলাম জনপ্রতি ২০ রুপি করে নিল। জলপাইগুড়ি থেকে কোন বাসই নেই। তাই টেক্সি রিজার্ভ করলাম ৫০০ রুপিতে। হলি উৎসব হওয়ার কারণে ভাড়াটা একটু বেশিই পড়ল। বিকাল ৩.৪০ মিনিটে আমরা ভারত ও বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ক্রস করলাম জনপ্রতি খরচ হলো ২৫০/- টাকা। ঢাকার টিকিট আগেই কনফার্ম করা ছিল SR এসি গাড়িতে। সন্ধ্যা ৬.০০ টায় ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম।৯ম দিন- সকাল ৯.২০ মিনিটে টেকনিক্যাল পৌছালাম।

CREDIT: মোঃ আরিফ হোসেন (চঞ্চল)

Arif Chanchol

Related posts
Bengali BlogTravel Blog

নাগাল্যান্ড ভ্রমনের আদ্যপান্ত।

English BlogTravel Blog

Trip to Delhi>Agra>Jaipur Triangle.

Bengali BlogTravel Blog

১০০ ডলারে থাইল্যান্ড ভ্রমন---বাজেট ট্রাভেল প্লান.

Bengali BlogTravel Blog

ইম্ফাল ভ্রমন-জীবন থেকে শেখা

Sign up for our Newsletter and
stay informed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares