Travel Hacks

বাজেট ট্রাভেল হ্যাক—হোস্টেল

হোস্টেল নিয়ে বলার আগে এর ইকো সিস্টে মের হালকা শানে নুজুল

ভ্রমন একটি ব্যয় বহুল শখ।পাসপোর্ট – ভিসা থেকে শুরু করে সব কিছুতেই টাকার প্রয়োজন। আমার মত নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের ভ্রমন করা একটু কঠিন কারন অর্থ একটি অন্তরায় হয়ে দারায়। এরপরও আমি বছরে ৬০ দিন ঘুরি। হোক প্রতিবেশি দেশ গুলো তবু ঘোরা থামিয়ে দেই নি।

ভ্রমনের জন্য সব থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসটা হল থাকার জায়গা। আর হোটেল, রিসোর্ট এর ভাড়া বেশিই হয়। হুম, স্বল্প দামের হোটেল আছে সারা দুনিয়াতেই। কিন্তু আপনার দেখতে হবে তারা আসলে স্বল্প দামে কি কি দিচ্ছে।
আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি ৫ তারা থেকে শুরু করে ২০০ টাকার হোটেলের থেকেছি।

বড় হোটেল গুলোতে আমার বিলাসিতা মনে হয়, আবার ছোট হোটেল গুলোতে ঘুমানোর জন্য একটি বেড ছাড়া আর কিছুই নেই। আমি অনলাইনে টুকটাক কাজ করি। কাজের জন্য যেখানে,যে দেশেই যাই না কেন আমার ইন্টারনেটের দরকার পরে। ছোট ,স্বল্প দামের হোটেল গুলোতে ইন্টারনেট ত দুরের কথা অনেক সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়তে হয়।



আমার মত আপনারা সবাই চান একটু ভাল পরিবেশে এসি+ইন্টারনেটে থাকতে, আবার বাজেট ও দেখা যায় কমের মধ্যেই রাখতে হবে।
এর একটা সমাধান আছে।
“হোস্টেল”’।


হোস্টেল হল কোন একটা রুমে ৪-৮ জন লোকের সাথে রুম শেয়ার করে থাকা। ধরুন একটা রুমে ৮ টা বেড আছে, আপ্নারা ৮ জন ৮ টা বেডে ঘুমালেন। এটাই হোস্টেল। আমি জানি শুনতে কেমন যেন লাগছে। গাদাগাদির কিছুই নেই।
হ্যা তবে নিজের প্রাইভেসি একটু ক্ষুন্ন হয়, এতটুকু স্যাক্রিফাইস আপনার করতে হবে। ভারতের ১০+ শহরে আমি হোস্টেলে থেকেছি। এইসব হোস্টেল গুলোতে আপনি হাই স্পিড ইন্টারনেট পাবেন, বসার জন্য কমন রুম, এসি এমনকি অনেক হোস্টেল সকালের নাস্তা পর্যন্ত দেয় তাও আবার ৫০০ রুপির মধ্যেই। আমি মুলত হোস্টেল ভালবাসি কমন রুমের জন্য। ধরুন আপনি একটা দেশে গেছেন, সারাদিন ঘুরলেন। সন্ধ্যার পর আর কিছু করার পাচ্ছেন না। ঘুম,টিভি দেখা বা ইন্টারনেট ব্রাউজিং ছাড়া।

কমন কিছু করা একজন ট্রাভেলারের লক্ষন না।

আপনি হোস্টেলে থাকলে সেখানে রুমেই কিছু বন্ধু পাচ্ছেন তাদের সাথে আড্ডা দিলেন নানা দেশের নানাজন থেকে অনেক কিছুই সেখার আছে। কমনরুমে গেলেন, হাজারো বই সাজিয়ে রাখা আছে পড়ার জন্য।


আমার দেখা অনেক হোস্টেল মুভি জোন করে রাখে, সেখানে হয়ত নেটফ্লিক্সের মুভি দেখলেন সাথে কোকাকোলা।
প্রায় সব হোস্টেলই অনেক ট্যুর অপারেট করে থাকে। নাইট ওয়াকিং ট্যুর, স্ট্রিট ফুড ট্যুর ইত্যাদি। ওদের ঐ এক প্রহরের ট্যুর আপনার মনে আজিবন দাগ কেটে থাকবে।
দিল্লিতে আমি একটা বারবিকিউ পার্টিতে ছিলাম।যেই মজাটা করেছি সারারাত আজন্ম মনে থাকবে।
যাইহোক বুঝে ফেলেছেন হয়ত হোস্টেল ইকো-সিস্টেম।
এখন বলি হোস্টেল খুজে পাবেন কিভাবে। আবার কোন হোস্টেল এ থাকা যাবে কোন গুলোতে থাকা যাবে না।

হোস্টেল খুজে পেতে কিছু সাইট আপনাকে সাহায্য করতে পারবে,
১.http://www.hostels.com  

২.https://www.hostelworld.com

৩.www.booking.com


আমার সব থেকে পছন্দের ওয়েবসাইট হল বুকিং.কম এবং আমি শুধু এই ওয়েবসাইটটি ব্যাবহার করি। তার কিছু কারন আছে। এই ওয়েবসাইটের ইউজার ইন্টারফেস অনেক ভাল মানে আপনি খুব সহজেই সব কিছু বুঝবেন এবংআমার জন্য সব থেকে উপকারি ফিচারটা হল এই ওয়েবসাইটে অনেক হোটেল+হোস্টেল এর জন্য ক্রেডিট কার্ড লাগে না রিজারবেশন করতে।

এমনকি ওখানে একটি অপশন আছে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ওয়েব সার্চ করার মত । সার্চবারের পাশের অপশন থেকে ইচ্ছেমত অপশনে ক্লিক করে নিলে ওরা শুধু ঐ অপশনের হোটেল+হোস্টেল দেখাবে। সহজেই শুধু হোস্টেল খুজে বের করার জন্য

booking.com screenshot
হোস্টেল সারচিং , web: www.booking.com

লাল কালিতে দেখানো ঐ অপশনে ক্লিক করলেই হবে, কস্ট করে খুজে দেখা লাগবে না।

#কেমন হোস্টেলে থাকা যাবে  আর কেমন হোস্টেল এড়িয়ে চলতে হবে?  

সব হোস্টেলই সস্তা তবে সকল সস্তা হোস্টেল থাকার যোগ্য নয়। কিছু কিছু হোস্টেল এর অথোরিটি একটু বেশিই সস্তা করতে গিয়ে খুব খারাপ করে ফেলে আবার অনেক হোস্টেল তাদের বিজনেসটাকে অত ভালভাবে নেয় না, এইসব স্থান গুলোতে থাকা আসলেই সম্ভব না অন্তত হোস্টেলের ব্যাপারে।
যাইহোক, ওয়েবসাইটে ঢুকে যখন একটা হোস্টেল পছন্দ করবেন সাথে নিচে গিয়ে দেখবেন অনেক ট্রাভেলারদের রিভিউ আছে, রেটিং আছে। ভাল রেটিং ও রিভিউ না হলে সেখানে না থাকাই ভাল।
নতুন হোস্টেলের রিভিউ কম থাকতে পারে তবে দেখবেন রেটিং যেন ৭ এর উপরে হয়, নাহলে এভোয়েড করুন।

#ডুস এন্ড ডোন্টস ( কি করা উচিত  আর কি করা যাবে না)———-

১. হোস্টেলে যেহেতু  এক রুমে অনেকজন থাকছেন সেহেতু নিজের মালামাল বা অর্থ নিয়ে একটু টেনশন করতে হয়, কেউ নিয়ে চলে গেলে ত সব শেষ, এই জন্য ঐসব হোস্টেলে উঠুন যেখানে প্রাইভেট লক আছে। আর ছোট্ট একটি তালা সব সময় নিজের সাথেই রাখুন যদিও প্রায় হোস্টেলেই তালার ব্যাবস্থা থাকে এবং ফ্রি। ২.হোস্টেল রুমে বসে কোন ধরনের ফোনে কথা বলা আড্ডামারা উচিত নয়, হয়ত কেউ একজন ঘুমাচ্ছে তার খেয়াল রাখা উচিত। ফোনে কথা বলতে হলে কমন্রুমে চলে যান, যত জোরে ইচ্ছে চিল্লায়ে কথা বলুন আর আড্ডা মারুন।
৩. বাথরুম গুলোও কমন হয়, অতিরিক্ত সময় ব্যয় করবেন না ,অন্যাকে সুযোগ দিন।

# মেয়েদের জন্য হোস্টেল নিরাপদ?

অবশ্যই। সব হোস্টেলে মেয়েদের জন্য আলাদা রুম থাকে যদিও ফিমেল রুম গুলোর ভাড়া এভারেজ রুমের থেকে বেশি হয় যেটা আমি মেনে নিতে পারি না।  মারকেটিং স্ট্র্যাটেজি হবে হয়ত।


আমি আমার অভিজ্ঞতায় অনেক মেয়ে ট্রাভেলারের সাথে পরিচিত হয়েছি যারা সব সময় হোস্টেলে থাকে





আমার পছন্দের কিছু হোস্টেলঃ

১. জোস্টেল। জোস্টেল একটি হোস্টেল চেইন। ভারত ও নেপাল জুরে এদের অনেক হোস্টেল আছে। আমার দেখা সব থেকে সেরা হোস্টেল গুলোর মধ্যে অন্যতম। সব থেকে জোস্টেল জয়পুর আমার কাছে বেশি ভাল লেগেছে।
জোস্টেল এর ভাড়া ৫০০ রুপি। সব ব্যাপার হাই ফাই।
এখানে থেকে তাদের তথ্য পাওয়া যাবে– Zostel

২. মুস্টাস । মুস্টাস মানে বাংলায় গোফ। এই হোস্টেলটি আমার ভাল লাগার কারন হল প্রত্যেকটা বেড পরদা দিয়ে ঢেকে দেওয়া। গাদাগাদির মধ্যেও এক্সট্রা প্রাইভেসি আর কি। মুস্টাস এর তথ্য পাবেন এখান থেকে– Mustache.



ভাল থাকবেন। কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন।
এমন অনেক হ্যাক্স পোস্ট পাবেন , তাই সাথেই থাকুন 😊


Nepal blog: Blog 1

Related posts
Travel Hacks

ভ্রমন খরচা ট্রিক ---(ঘুুরবে এবার সবাই)

Sign up for our Newsletter and
stay informed

8 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares