Travel Hacks

ভ্রমন খরচা ট্রিক —(ঘুুরবে এবার সবাই)

EMPTY POCKET

ভ্রমন একটি ব্যয় বহুল শখ। পাসপোর্ট – ভিসা থেকে শুরু করে সব কিছুতেই টাকার প্রয়োজন। আমার মত নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের ভ্রমন করা একটু কঠিন কারন অর্থ একটি অন্তরায় হয়ে দারায়।

এরপরও আমি বছরে ৬০ দিন ঘুরি। হোক প্রতিবেশি দেশ গুলো তবু ঘোরা থামিয়ে দেই নি।
নি-খরচায় বা স্বল্প খরচায় ভ্রমন করতে আমি যেসব পদ্ধতি অবলম্বন করি তা সহজ ভাষায় তুলে ধরলাম…

১ঃ ট্রাভেল প্লান করে দেওয়া—–

আমি অনলাইনে প্রায়ই একটা কাজ করি সেটা হল কারো জন্য ভ্রমন প্লান করে দেওয়া। খরচ থেকে শুরু করে সব।

বুঝিয়ে বলছি–

ধরুন– অনেক সময় অনেক বিদেশি মানুষ ভারত ঘুরতে আসবে ১ মাসের জন্য৷ ভারত তার কাছে নতুন এবং আলাদা ইকো-সিস্টেম। সে অনেক ব্যাস্ত মানুষ তাই তার পক্ষে অনলাইনে কোন রকম রিসার্চ করা সম্ভব না। কিন্তু সে প্রত্যেক্টা পা ফেলতে চায় একটা ট্রাভেল প্লান নিয়ে। সে ভারতের প্রায় অনেক জায়গা দেখতে চায়,

আপনি তার ট্রান্সপোর্ট, থাকার জায়গা, এমনকি কোন জায়গায় গেলে কি দেখবে এবং ওখানে ট্যুরিস্ট এজেন্সি কে আছে ঘুরিয়ে দেখানোর মত সেটাও আপনাকে মেনশন করতে হবে একটা প্লান শিটের মধ্যে।অনেক সময় এয়ারটিকেট ও হোটেল বুক করে দিতে পারলে আরো খুশি।😂

এরকম প্রোজেক্ট এর বাজেট কম পক্ষে ৫০ ডলার থাকে। ক্ষেত্রবিশেষে বেশিও থাকে। তবে ট্রাভেল প্লান করতে হলে আপনাকে একটু অভিজ্ঞতা রাখতে হবে সাথে অনলাইনে আনলিমিটেড ঘাটাঘাটি করার মানুষিকতা। 

কখনোই ট্রাভেল প্লান যা ইচ্ছে তাই একটা ধরিয়ে দেওয়া যাবে না। নিজের মনে করেই করতে হবে।আমি সর্বনিম্ন ৫০ ডলার ও সর্বোচ্চ ২৪০০ ইউরো পর্যন্ত কামিয়েছি একটা ট্রাভেল প্লান বানিয়ে😉।

এই ক্ষেত্রে আয়ের আরো উপায় আছে—-

১.অনেকেই আপনাকে এয়ারটিকেট ও হোটেল বুক করে দিতে বলবে তবে সেটা বিশ্বাস জিতে নিতে হবে, সে ক্ষেত্রে কমুনিকেশন ভাল থাকলেই কেবল সম্ভব। 

এয়ারটিকেট এর ক্ষেত্রে ORBITZ এ আপনি টিকেট প্রতি এক্সটা ডলার ও কামাতে পারেন।

আবার হোটেল বুকিং এর জন্যে BOOKING.COM এ আপনার এফিলিয়েট লিংক (যেমন এটা আমার লিংক https://booking.com/s/67_6/fahadb09

দিয়ে বুকিং করে নিজেও কিছু কামিয়ে নিলেন আর কি, আমার অনেক হোটেল ছিল অলমোস্ট ফ্রি অন্যের হোটেল বুক করে দিয়ে😂।

এরকম অনেক প্রোজেক্ট আপনি FREELANCER.COM এ পাবেন। তবে এটা একটা ফান জব, সব ছেড়ে এর পিছনে লেগে থাকা ঠিক হবে না।

২ঃ Having a fun job————

বুঝিয়ে বলছি- এক ঘেয়ামি চাকরি থেকে বের হয়ে নতুন কিছু করতে পারেন। যেমন ধরেন আমি একজন ফ্রিলান্স কন্টেন্ট রাইটার ছিলাম ৩ বছর S2M MAGAZINE নামক ওয়েবসাইটে। বেতন খুব বেশি না পেলেও ২-৩ মাস পর একটা ট্রিপ দেবার টাকা জোগার হয়েই যেত। এবং মজার ব্যাপার হল মুক্তপেশার মানুষগুলো যেখানে ইচ্ছা সেখানে বসে কাজ করতে পারে। একটা ৩ ঘন্টার ফ্লাইটে বসে অনেকবার অনেক কন্টেন্ট শেষ করেছি। তাই আপনি ভ্রমনের সময়েও কিন্তু আয় করছেন।
আবার এমন ফ্রিলান্স কাজ বেছে নিবেন না যেখানে যেকোন সময় ক্লাইন্ট আপনাকে জ্বালাতে পারবে। সেক্ষেত্রে এই বিষয়টা আপনার নিজেরই ফিগারআউট করে নিতে হবে।

৩ঃ মাল্টিন্যাশনাল একটি কম্পানিতে চাকরি—-

আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কম্পানিতে চাকরি ভ্রমনের জন্য বিশাল এক সুবিধা। বুঝিয়ে বলছি—
আমি বর্তমানে একটি কম্পানিতে কাজ করছি যার নাম seats2meet .আমাদের কম্পানির কাজ হল যুব উন্নয়ন বা ইংরেজিতে YOUTH DEVELOPMENT.
আমরা গ্রাম্য পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ আর্থসামাজিক ফ্যাক্টস নিয়ে কর্মশালা করে থাকি। আমাদের কার্যক্রম দুনিয়ার ১৬৮টি দেশে আছে।

বাংলাদেশে আমার গ্রাম থেকে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি এই সপ্তাহ থেকে,(২৯শে জুন) ।
যাইহোক, আমাদের কম্পানির কাজে আমি নেপাল,ভুটান ও ভারতের অনেক জায়গা ঘুরেছি। কাজ শেষে উক্ত যায়গায় থেকে এসেছি ইচ্ছেমত। ব্যাস হয়ে গেল আমার ট্রাভেল বিনা পয়সায় সাথে আবার সন্মানিবাবদ টাকা। অনলাইনে খোজ করলে ও কমুনিটির সাথে লেগে থাকলে এরকম অনেক সুযোগ আপনি পেতে পারেন।

৫ঃআন্তর্জাতিক নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রাম—

এই বিষয়টাও চলেন বুঝিয়ে বলছি—
আন্তর্জাতিক অনেক সংস্থা ছাত্রছাত্রি বা ছেলেমেয়েদের নিয়ে নলেজ শেয়ারিং প্রোগ্রাম করে যেখানে বিভিন্ন দেশের ছেলেমেয়েরা একত্রিত হয়ে তাদের জ্ঞ্যানের আদান প্রদান করে। এরকম বহু প্রোগ্রামে আমি অংশগ্রহন করেছি একজন  ইউয়ুথ হিসেবে , মেন্টর হিসেবেও মুম্বাইতে গিয়েছি ১ বার।যাইহোক, এইসব প্রোগ্রামে আপনি চাইলেই যেতে পারবেন তাদের ফর্ম পুরন করে। আপনাকে ভাল লাগলে তারা ডাক দেবে সাথে সকল খরচাপাতি। এক্ষেত্রে আমার কোনদিন ভেরিফিকেশন বা পছন্দ-অপছন্দের মুখোমুখি পড়তে হয় না কারন বরাবর কেউ না কেউ আমার বন্ধু থাকেই। তাই সবাইকে বলছি অনলাইনে একটা সুন্দর সার্কেল/কমিউনিটি গড়ে তুলুন যাদের দ্বারা উভয়েরই সুযোগ তৈরি হতে পারে। আমি যে সংস্থার মাধ্যমে যেতাম তাদের website.
আমি যদিও আমার কোন তথ্য শেয়ার করি না তাও দিলাম।

৬ঃ বন্ধু/হোস্ট এর বাসায় থাকা বা CouchSurfing ব্যাবহার করা——

বন্ধু বা হোস্ট এর বাসায় ফ্রিতে থাকতে পারা ভ্রমন খরচ ৮০% কমিয়ে দিতে পারে। আমি জিবনে অনেকবার বন্ধুদের বাসায় আতিথেয়তা গ্রহন করেছি এবং আমি মনে করি ভ্রমনের জন্য এটা দুনিয়া সেরা ভ্রমন মাধ্যম। বন্ধুরা ছিল সব ফেসবুকের চেনা পরিচিত। অনেকেরই অনেক শহর বা দেশে বন্ধু নাই থাকতে পারে এক্ষেত্রে সব থেকে ভাল ও  সহজ মাধ্যম হল couchsurfing বা তাদের এপ থেকে উক্ত শহরে বন্ধু খুজে বের করা যারা আপনাকে তাদের বাসায় থাকতে/খেতে দিবে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই উক্ত হোস্ট এর রিকোমেন্ডেশন,রেটিং দেখে নিবেন। এখন অনেক স্ক্যামার বা ফ্রডবাজ নিজের ঘরে ডেকে এনে সর্বস্ব লুটে নেয়। এই থেকে সাবধান।

৭ঃট্রাভেল এন্ড ওয়ার্ক—–

ট্রাভেল এন্ড ওয়ার্ক হল কাজ করতে করতে ঘুরে বেড়ানো। ধরেন আপনি একটা দেশে ঘুরতে গেছেন সেখানে গিয়ে এক সপ্তাহের জন্য ছোট একটা কাজ করলেন এবং পরের সপ্তাহ ঘুরে দেশে চলে আসলেন বা এইভাবে কাজ+ভ্রমন চালিয়ে গেলেন। এই কাজে আমার অভিজ্ঞতা নেই তবে আমার পরিচিত ২-১ জন বড়ভাই মালেশিয়া,ভিয়েতনাম ও কম্বডিয়ায় দুই-তিন মাস এভাবে কাজ ও ভ্রমন চালিয়ে গেছেন। এইসব খন্ডকালিন চাকরিগুলো বার,রেস্টুরেন্ট ও পাব গুলো দিয়ে থাকে। সেখানে গিয়ে যোগাযোগ করলেই পাওয়া যায়। একটু ঝামেলাপূর্ণ মনে হলেও কঠিন কিছু না।
তবে হ্যা, উক্ত দেশের আইন মেনেই যা করার করতে হবে, মনে রাখবেন আপনার একটা অবৈধ কাজের বদনাম কিন্তু আপনার না বরং আপনার গোটা দেশের। 

৮ঃ ট্রাভেল রাইটিং+ভিডিও মেকিং——-

ট্রাভেল রাইটিং বা ভ্রমন গল্প লিখেও আপনি অর্থ আয় করতে পারবেন। প্রথমে একটি ওয়েবসাইট বানান তাতে নিজের গল্প লিখুন সাথে গুগল এডসেন্স যোগ করুন। ব্যাস এইত। শুনতে সহজ শুনালেও এতটাও সহজ না কিন্তু সম্ভব। আমার ওয়েবসাইট suvojatra আজকেই(৪ জুলাই) এডসেন্স এপ্রুভাল পেল।

Adsense approval email
My adsense approval.

মানে এখন থেকে আমার ওয়েবসাইটে এড শো করে গুগল আমাকে অর্থ প্রদান করবে।
ভিডিও মেকিং এরও একই প্রসেস। ভিডিও বানান, মনিটাইজেশন যোগ করুন। ব্যাস হয়ে গেল। এখন ত ফেসবুক ও ইনেস্টাগ্রাম  ভিডিও মেকারদের জন্য মনিটাইজেশন প্রোগ্রাম চালু করেছে।

৯ঃঅনলাইন শিক্ষক—

আমি জানি শুনলে হাস্যকর লাগবে কিন্তু আজকাল অনলাইনেও পড়িয়ে টাকা উপার্জন করা যায়। স্কাইপে আপনি শিখাতে পারবেন এমন কিছু যার উপরে আপনার দক্ষতা আছে। এই ব্যাপারে আমার কিছু পূর্ব অভিজ্ঞতা  আছে। পর্তুগীজ এক মহিলাকে আমি ইংরেজি শিখিয়েছিলাম স্কাইপে। শুধু ইংরেজি কেন,অনেক কিছুই অনলাইনে শিখিয়ে আয় করা সম্ভব। আমি কিছুদিন এই ওয়েবসাইট  এ কাজ করেছি। 

১০ঃভলান্টিয়ার প্রোগ্রাম——

ভলান্টিয়ার প্রোগ্রাম আমার সব থেকে প্রিয় মাধ্যম ভ্রমন করার। অনেক দেশি+বিদেশি কম্পানি,সংস্থা ভলান্টিয়ার খোজে বিভিন্ন দাতব্য,সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য। ভলান্টিয়ারদের কাজ অনেক রকমের হতে পারে। আমি দুইবার ভারতের গিয়েছিলাম Goabroad ওয়েবসাইটের প্রোগ্রামে। রাজস্থান ও পুশকারে আমাদের নারি উন্নয়ন ও টয়লেট এর উপরে সচেতনতা মূলক কর্মশালা ও গরিব বাচ্চাদের খাবার প্রদানের কাজ করি আমি। বেশ ভাললাগা ও আত্বতৃপ্তি কাজ করে সব সময়।
*ভলান্টিয়ার প্রোগ্রাম গুলো সব সময় ফ্রি হয় না বা আপনাকে সব সময় ফ্রিতেও নিবে না। অনেক সময় আপনার খরচ এমনকি বাড়তি টাকা দিয়েও যাওয়া লাগতে পারে। সবাইকে আহবান করব এমন প্রোগ্রামে যেতে,অনেক ফ্রি ট্যুর আছে পারলে টাকা খরচ করেই যান। সারাজিবনের জন্য একটা ভাললাগা কাজ করবে এবং দেখতে পারবেন কত মানুষ আপনার থেকে খারাপ পরিস্থিতি আছে। স্রষ্টার কাছে  একবার শুকরিয়া করার জন্য হলেও নাহয় একবার যাবেন।

কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন।
ধন্যবাদ। 








Related posts
Travel Hacks

বাজেট ট্রাভেল হ্যাক---হোস্টেল

Sign up for our Newsletter and
stay informed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Worth reading...
বাজেট ট্রাভেল হ্যাক—হোস্টেল
Shares