ALL about Visa

মিয়ানমার ভ্রমণ তথ্য

(১) ভিসাঃ মিয়ানমারের ভ্রমণ ভিসার জন্য বিভিন্ন ট্রাভেলস এজেন্সি রয়েছে। আপনি ভাল যেকোন একটি এজেন্সিতে ভিসার জন্য জমা দিতে পারেন। এক্ষেত্রে ৫৫০০-৬০০০ টাকা খরচ হবে ভিসা করাতে। মাত্র ৩ দিনে আমি ভিসা পেয়েছিলাম। এছাড়া আপনি মিয়ানমার দূতাবাসের এজেন্ট DNATA Group এও সরাসরি আবেদন করতে পারবেন তাতে আপনাকে সব কিছু যোগাড় করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে যেয়ে জমা দিয়ে আসতে হবে।

(২) ভিসা আবেদনের দরকারি কাগজপত্রঃ সাধারণত সবারই প্রায় কিছু কাগজপত্র একই লাগে। যেমনঃ পাসপোর্ট, ছবি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ব্যাংক সলভেন্সী সার্টিফিকেট ইত্যাদি। এছাড়াও পেশাভেদে অন্যন্যা কিছু কাগজপত্র লাগে। যেমনঃ পেশার পরিচয়পত্রের ফটোকপি, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনাপত্তিপত্র, জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন পত্রের ফটোকপি ইত্যাদি।

(৩) যাতায়াতঃ ঢাকা-ইয়াংগুন-ঢাকা এই পথে বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ছাড়া আর কোনো বিমানসংস্থা সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে না। ভাড়া ২৬০০০-২৮০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। অন্যন্যা এয়ারলাইনস কোনো না কোনো জায়গায় ট্রানজিট দিয়ে নিয়ে যায়। সেক্ষেত্র ভাড়া ২৮০০০-৩০০০০ টাকা হয়ে থাকে।

(৪) ইয়াংগুন ইমিগ্রেশন অভিজ্ঞতাঃ আমি কোলকাতা থেকে রওয়ানা করার কারণে সংগত কারণেই আমাকে কোলকাতা ইমিগ্রেশন অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে। পরে কোনো অসংগতি না পেয়ে পাসপোর্টে সিল মেরে ছেড়ে দেয়। কিন্তু ইয়াংগুন ইমিগ্রেশন আমার ভাবনা চিন্তার থেকেও অতিরিক্ত করে ফেলেছে আমার সাথে। বিমান থেকে নামার পর যখন ইয়াংগুন ইমিগ্রেশনে দাঁড়ালাম তখন আশেপাশে সব সাদা চামড়ার মানুষ। একে একে আমার সামনের সবার ইমিগ্রেশন শেষে যখন আমি ইমিগ্রেশন ডেস্কে গেলাম ঠিক তখনই ঘটল আসল ঘটনা। ইমিগ্রেশন অফিসার ছিল একজন বার্মিজ মহিলা। আমার পাসপোর্ট হাতে নিয়েই কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শুধুমাত্র বলল, “স্যার BGD।” তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাড়াতাড়ি ছুটে আসলো। এসে আমাকে তার সাথে একটা রুমে নিয়ে গেল। হটাৎ খেয়াল করলাম আমার পিছের সব মানুষ আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে আছে যেন আমাকে আসামী হিসেবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এভাবে নিয়ে যাওয়াটা তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে খুব লজ্জায় ফেলে দিয়েছে। ভরা মজলিসে যারা এরকম অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে একমাত্র তারাই জানে সে সময়টায় কেমন অসহায় মনে হয় নিজেকে। তো ওই কর্মকর্তা আমাকে প্রশ্ন করার আগে আমি তাকে প্রশ্ন করলাম আমাকে কেন ওই লাইন থেকে আলাদা করে এখানে আনা হল? তিনি বললেন, “তোমাকে বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাই সেখানের মানুষদের যাতে অসুবিধা না হয় তাই এখানে আনা হয়েছে।” তিনি একে একে নাম, কি করি, কেন আসছি, কেন মিয়ানমারেই ঘুরতে আসছি ইত্যাদি জিজ্ঞেস করল। আমিও সফলভাবে সবগুলো প্রশ্নের ঊত্তর দিলাম। বলাবাহূল্য আমি ইতিমধ্যেই হোটেল বুকিং, বিমান টিকেট ইত্যাদি দেখিয়েছি। কিন্তু তারপরেও সে সন্তুষ্ট না। এরপর সে আমার মোবাইল ফোন চাইল এবং আমিও দিলাম। কারণ আমি জানি আমার মধ্যে কোনো অসংগতি নেই তাই সংকোচ করার কোনো কারণও নেই। মোবাইল ফোনের গ্যালারী অনেক ঘাটাঘাটি করে আমার বন্ধু আর বান্ধুবীর কক্সবাজার সৈকতের একটা ছবি দেখে তার চোখ আটকে গেল আর জিজ্ঞেস করল এরা কারা আর আমিও সত্য কথাই বললাম এরা আমার বন্ধু-বান্ধুবী। এরকম করতে করতে ১ ঘন্টার বেশি হয়ে গেল। আমি পরে বিরক্ত হয়ে সেই কর্মকর্তাকে বললাম দেখ তুমি আমাকে সীমার চেয়েও অনেক বেশি তদন্ত করেছো। তোমার দূতাবাস আমাকে ভিসা দিয়েছে, আমিও এখানে এসে পড়েছি। এখন এত জিজ্ঞাসার পরেও যদি তুমি সন্তুষ্ট হতে না পারো তাহলে আমাকে আমার পরবর্তী গন্তব্যে ফেরত পাঠিয়ে দাও কারণ আমি তোমাদের ব্যবহারে রীতিমত বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি। আমার এখন কোনো ইচ্ছা আর নেই এত ভোগান্তির স্বীকার হয়ে মিয়ানমার ঘোরার। অতঃপর সে আমাকে নিজ দায়িত্বে পাসপোর্টে সিল মেরে আমাকে মিয়ানমারে প্রবেশের অনুমতি দিল। 
এই পুরো ঘটনার সময় তারা আমাকে এত তদন্ত করলেও তারা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি এবং প্রত্যেকটি প্রশ্নের সময় হাসিমুখেই প্রশ্ন করেছে।

(৫) হোটেলঃ ইয়াংগুনে পর্যটকরা বেশিরভাগ ডাউন্টাউন এলাকায় থাকে। এখানে হোটেল ভাড়া ২০০০ টাকায় মোটামুটি মানের।

(৬) যানবাহনঃ বাস আর সার্কুলার ট্রেন হল ইয়াংগুনের সস্তা যাতায়াত মাধ্যম। এছাড়া গ্র‍্যাব, উবার খুব সহজলভ্য যানবাহন ইয়াংগুনের।

(৭) খাবারঃ মিয়ানমারে হালাল খাবার খেতে হলে বিভিন্ন রেস্তরাঁ ছাড়া ঊপায় নেই। এছাড়া স্থানীয় খাবার যদি ভালো লাগে তাহলে তাও খেতে পারেন।

(৮) দর্শনীয় স্থানঃ ইয়াংগুন আসলে প্যাগোডার শহর। শহরে অনেক সুন্দর সুন্দর নকশা করা প্যাগোডার দেখা মিলবে। এছাড়া বাগান নামক জায়গায় ঘুরে আসতে পারেন। হাতে সময় থাকলে মান্দালেয় ঘুরে আসতে পারেন।

(৯) একনজরে মিয়ানমারঃ মিয়ানমারের মানুষজন খুবই আন্তরিক… মিয়ানমারের মুদ্রার নাম কিয়াট… ১ টাকা সমান ১৪ কিয়াট প্রায়… এটিএম থেকে কিয়াট উত্তোলন করলে অনেক কম দর পাবেন… ইয়াংগুন বিমানবন্দরের কোনো দোকানে আন্তর্জাতিক কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন না কারণ তারা গ্রহণ করে না, এমনকি কেএফসি তেও না… বিমানবন্দরে ডলার ভাঙ্গালে ভালো দর পাওয়া যায় বলে আমার মনে হয়েছে… মিয়ানমারের স্থানীয় মানুষজন এমনকি ভালো ভালো নামকরা দোকানগুলোর কর্মকর্তাও বার্মিজ ভাষা ছাড়া কথা বলতে পারে না… ইয়াংগুনে অনেক মুসলিম মানুষজন বাস করে, তাই বলে মসজিদ খুব বেশি তাও না… ইয়াংগুনের প্রানকেন্দ্র ডাউনটাউন এলাকায় সূলে প্যাগোডার পাশেই “বাঙ্গালি ছুন্নী জামে মসজিদ” অবস্থিত, এখানে অনেক মুসলিম মানুষের দেখা মিলবে…

(বি. দ্র. উপরোক্ত বর্ণনা একান্তই আমার ব্যক্তিগত কাহিনী… কালে-ভদ্রে-পাত্রে অন্যরকমও হতে পারে)




লেখক— ইয়ান সাল মান।
ফেসবুকঃ https://www.facebook.com/afm.salman.96

Related posts
ALL about Visa

***নেপাল ভ্রমণ বিষয়ক তথ্য***

Sign up for our Newsletter and
stay informed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares