Bengali BlogTravel Blog

সিলেট–কম খরচে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ ভ্রমন সমাচার


অনেকে সিলেট যাচ্ছেন, খুব চিল হচ্ছে মোস্ট ইম্পরট্যান্টলি প্রচুর আজাইরা খরচও হচ্ছে। খরচের জন্য ২০০০/২২০০ টাকাই যথেষ্ট

এই যেমন ধরুন কদমতলি বাস স্ট্যান্ড এ নেমে ২০০ টাকা (এরা যে স্মার্ট আরো বেশিও চাইতে পারে 😜 মুখে মধু অন্তরে বিষ টাইপ) দিয়ে সিএনজি ভাড়া করলেন আম্বরখানা পর্যন্ত অথচ রিক্সায় ৫০/৬০ টাকায় অনায়েসে যেতে পারতেন (২/১ জন থাকলে)।

চলুন কিভাবে কম টাকায় বেশি চিল করা যায় তা দেখা যাক। সিরিয়াসলি।

যারা প্রথমবার সিলেটে যাচ্ছেন তাদের জন্য কিছু অতিব জরুরি প্রশ্নঃ সিলেটে যাবো কিভাবে, গেলাম তো খাবো কই, ঘুরবোই বা কোথায় কোথায়, থাকবো কই সো অন?

ইউ নো বেশি মানুষ হলে সহজেই ইকোনমিজ অব স্কেল অর্জন করা সম্ভব কিন্তু যারা ২/১ জন আদমি ঘুরতে যাবে তাদের কি হবে!

সিলেটে অনেকের আবার পল্টি মারার অমায়িক গুণ রয়েছে, ধরতে গেলে পল্টি মারায় ওস্তাদ। সাবধান। সব ক্লিয়ার কাট করে নিবেন।

কিভাবে যাবেনঃ
বাসে গেলে খরচা কিঞ্চিত বেশি হবে কম্পেয়ারড টু ট্রেন।
বাসঃ ভালো সবগুলোই প্রায় ৪৭০ টাকা।
ট্রেনঃ শোভন ২৬৫, শোভন চেয়ার ৩২০।
প্লেনঃ জানিনা।

ট্রেন সময় সূচিঃ

খরচ কমাতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই ট্রেন এ অগ্রিম টিকেট কাটতে হবে। স্টেশনে ৫ দিন আগে হাজির হোন ( না হলে নাও পেতে পারেন। এই ব্যাপারে আমার ভীষণ তীক্ত অভিজ্ঞতা আছে)।

পারলে আগেই টু ওয়ে টিকেট কেটে রাখুন।

শা করে 😃 চলে যান সিলেট। রুম আগে ভাড়া করে রাখতে পারলে ভালো, না পারলেও প্রবলেম নাই। বাস থেকে নেমে কদমতলি থেকে সোজা চলে যান আম্বরখানা, অনেক টাইপের হোটেল পাবেন এখানে। নবাব টু স্মার্ট, আদার ব্যাপারি টু জাহাজের মালিক।
একটু কমে চাইলে দরগাগেটে খুজতে পারেন। কাছেই কাউকে জিজ্ঞেস করলে বিনাপয়সায় দেখিয়ে দিবে।

২ জন মোটামুটি লেভেলের একটা হোটেল ৫০০/৬০০ টাকায় পেয়ে যাবেন ১ রাত ( সিজনে একটু বেশি হবে)।

খাওয়ার জন্য সিলেটের বিখ্যাত পাঁচ ভাই আর পানশী রয়েছে। আপনি ১৫০ টাকায় যা খাবেন ভাবতেই পারবেন না। দুটায় পাশাপাশি। প্রচুর ভর্তার ভেরিয়েশন রয়েছে তবে চা টা মাস্ট ট্রাই। কোয়েল পাখি আর সাতকড়া নামক বস্তু দিয়ে গরু মুখরোচক খাদ্য হিসেবে বেশ সুনাম কুড়িয়েছে এখানে ( খাবারের খরচ টোটালি ডিপেন্ডস অন ইউ)।

সব সময় অল্প খরচে ঘুরতে চাইলে রিজার্ভ সিএনজি থেকে কয়েক কি.মি. দূরে থাকবেন। সাক্ষাত যম। মানুষ ঠকানোয় এদের জুড়ি নেই, সিদ্ধহস্ত বলা যায়। এদের চাইতে কয়েক কাঠি সরেশ নৌকার মাঝি মাল্লা।

মজার একটা কাহিনী আছে পরে বলতেছি।

দিন ০১ঃ জাফলং, সংগ্রামপুঞ্জী, খাসিয়া পল্লী, চা বাগান।

প্রচুর এক্সপেকটেশন রাখা ভালো না। হোটেল থেকে ফ্রেশ হয়ে বের হতে হতে ৬:০০। নাস্তা করে সোজা চলে যান সুবহানী ঘাট ( রিক্সায় ইবনে সিনা বললেই নিয়ে যাবে।)
এখান থেকে বাস ভাড়া জাফ্লং ৬০ টাকা পার হেড। (সিএনজি রিজার্ভ ১০০০/১২০০/১৫০০। যাবেন নাকি? 😜) ৩০ মিনিট অন্তর প্রতি বাস।

পৌছে যান জাফলং। মজার গল্প এখানেই। এখানে অনেকে সব ঘুরিয়ে দেখিয়ে আনার একটা সতেজ ঘিয়ে ভাজা প্যাকেজ অফার করবে যার বাজার মূল্য ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত।

আমার কাছে একজন ৩০০০ টাকা চেয়েছিলো, পড়ে আমি রাজি হইনি। নিজ উদ্যোগে ২০ টাকা 😂 দিয়ে নৌকা পার হয়ে সব দেখে চেখে এসেছি।
পরে শুনেছি এখানেও আমি ঠকেছি, নৌকা ভাড়া নাকি ১০ টাকা!!
প্রচুর মানুষ। অযথা প্যানিক না হয়ে আপনার কাজ হলো তাদের পেছন পেছন যাওয়া। যদি কূল না পান, যেদিক মানুষ বেশি ওইদিক হাটা দিন। মানুষের হেল্প নিন। মনে রাখুন দেশটা বাংলাদেশ।

খাসিয়া পল্লীতে অটোতে করে চা বাগান যেতে পারেন। আমরা পার হেড ২০ টাকা করে গিয়েছি, তবে এখানে কিছু বেশি লাগতে পারে। চা বাগান ঘুরে খাসিয়া পল্লীর ওখান দিয়ে ০৫ টাকায় নদী পার হয়ে বাস স্টপে চলে আসুন।

বিকালে নগরে ফিরে সময় থাকলে বান্দরটিলা ইকোপার্ক, শাহ পরাণের (রঃ) এর মাজার, রাতে শাহাজালাল (রঃ) মাজার ঘুরতে পারেন। সব সিলেট শহরেই। আরামের ঘুম।

দিন০২ঃ বিছানাকান্দি।

(চাইলে এই পথে রাতারগুল,পান্থুমাই ঘুরে আসা যায় তবে কিঞ্চিৎ ব্যয়বহুল যাত্রা।)

মনে করে রুম ছেড়ে দিয়ে ব্যাগ হোটেলে রেখে যান।

বিছানাকান্দি যাওয়ার সিএনজি পাবেন আম্বরখানায়, চলে যান হাদারপাড় নামক জায়গায়। হেড ১২০/- ( প্রচুর সিএনজি পাবেন ফেরত আসার সো ডোন্ট ওরি, নো রিজার্ভ।)

যাওয়ার পথেই দেখতে পাবেন একই সাথে বিখ্যাত ও নয়ানাভিরাম মালনিছড়া চা বাগান। বিমানবন্দর পার হলেই চোখে পড়বে ভেলাগঞ্জের আকাশ পার হয়ে দূরের মেঘালয়ের দানবের চেয়ে বিশাল বিপুল পাহাড়মালা যার গা জুড়ে নির্লিপ্ত শুভ্র মেঘের চাদর।

হাদারপাড় নেমে কারো কথায় কান না দিয়ে সোজা হাটা দিন যেনো আপনি কোনো কিছুই শুনতে পাননি, কিছুক্ষন হাটলে খেয়া ঘাট পাবেন। এখান থেকে রিজার্ভ নৌকা ৪০০/৫০০ নিবে (ভাড়া চাইবে হাজারখানেক। 😂নৌকায় একটা চিল ব্যাপার আছে। চাইলে হেটেও যেতে পারেন ৪০/৫০ মিনিটের বেশি লাগবে না।)

ইকোনমি ট্যুর হলে ০৫ টাকায় নৌকা পার হয়ে বাইকে চলে যান ১০০/- (ফিক্সড নো মোর নো লেস। খুবই ভালো)।
বাইক আপনাকে একেবারে বিছানাকান্দির পাথরের উপরে শুইয়ে রেখে আসবে। একই কায়দায় সিলেট ফিরে আসুন ( আবার এইসব বাহন পাবো কিনা ওসব চিন্তা রাবিশবিনে ফেলে দিন, এভ্রিথিং এভেইলেবেল।)

তবে বিছানাকান্দি যেয়ে মানুষ একটা অকাজ করে! ভাই আপনি গেছেন ঘুরতে পরিবেশটা ভালো রাখেন।
একটা দিন বাদ দেন না ভাই। যা বলছি যে বুঝার সে বুঝবে। দেখবেন একদিন ওইসবের ধ্বংসাবশেষে আপনার পা ও কাটতে পারে।

এই জন্যেই গুরু বলে গেছেন,

Travel and tell no one, live a true love story and tell no one, live happily and tell no one, people ruin beautiful things.

___Kahlil Gibran

হা দুপুরের পেটপূজো এখানেই করতে পারেন। ভেরি রিজনেবল। এখানে আরো পাবেন ইন্ডিয়ান বিভিন্ন নকল পণ্যের ব্যাপক সমাহার যা আপনার নজর কাড়বে। কিছু আসল পণ্য থাকতে পারে তবে সেগুলো নির্বাচনের জন্য নিতান্তই আপনার একজোড়া শকুনের ন্যায় চোখ থাকা আবশ্যক।

সিলেট নগরে ফিরে এসে হাতে যদি কিছু আজাইরা খুচরো সময় থেকেই যায়, যদি দেখেন তখনও পা টা চলছে ঘুরে আসতে পারেন কিন ব্রিজ এও।’

credit— আশরাফুল ইসলাম.
writer”s Fb–

Related posts
Bengali BlogTravel Blog

নাগাল্যান্ড ভ্রমনের আদ্যপান্ত।

English BlogTravel Blog

Trip to Delhi>Agra>Jaipur Triangle.

Bengali BlogTravel Blog

১০০ ডলারে থাইল্যান্ড ভ্রমন---বাজেট ট্রাভেল প্লান.

Bengali BlogTravel Blog

ইম্ফাল ভ্রমন-জীবন থেকে শেখা

Sign up for our Newsletter and
stay informed

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares